ঢাকাবুধবার , ২৫ অক্টোবর ২০২৩
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আপন আলোয় উদ্ভাসিত
  6. আরো
  7. এক্সক্লুসিভ
  8. কবিতা
  9. কৃষি ও প্রকৃতি
  10. খুলনা
  11. খেলাধুলা
  12. গণমাধ্যম
  13. চট্টগ্রাম
  14. চাকুরি
  15. চাঁদপুর জেলার খবর

শক্তি কমেছে ঘূর্ণিঝড় হামুনের, এগোচ্ছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের দিকে

রূপসী বাংলা ২৪.কম
অক্টোবর ২৫, ২০২৩ ৩:১৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় হামুন শক্তি হারিয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। বুধবার মধ্যরাত নাগাদ সেটি বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

ঝড়টি বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বন্দরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরসমূহকে সাত নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে সাত নম্বর বিপদ সংকেত নামিয়ে পাঁচ নম্বর সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

ঝড়ের কারণে উপকূলীয় জেলাগুলোয় ভারী বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো বাতাস বয়ে যেতে পারে বলে বলছে আবহাওয়া অধিদফতর।

হামুন নামটি ইরানের দেওয়া। যার অর্থ হচ্ছে সমতল ভূমি বা পৃথিবী।

আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্যমতে, উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর এবং এর আশেপাশের দ্বীপ ও চরসমূহ সমূহ সাত নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

এসব জেলার পাশাপাশি ফেনী, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি এবং এর আশেপাশের দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে তিন থেকে পাঁচ ফুট বেশি উচ্চতার বায়ু তাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।

সাত নম্বর সতর্ক সংকেত দেয়া সত্ত্বেও পটুয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলের আবহাওয়া সকাল থেকে অনেকটাই শান্ত রয়েছে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন এবং কোথাও কোথাও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি পড়লেও সন্ধ্যা পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত বা দমকা হাওয়া বয়ে যায়নি।

তবে সাগর ও নদী স্বাভাবিকের চাইতে কিছুটা উত্তাল রয়েছে।

তবে উপকূলীয় এলাকায় বাতাসের তীব্রতা বাড়তে পারে এবং ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে উঠতে পারে।

সকাল থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে পটুয়াখালী-ঢাকাসহ সব রুটের লঞ্চসহ নৌযান চলাচল। এসব নৌযানকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে।

ভারতীয় আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, উপকূল অতিক্রমের সময় ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল হয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। বুধবার সেটি বাংলাদেশের খেপুপাড়া ও চট্টগ্রামের মধ্য এলাকা দিয়ে অতিক্রম করতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় হামুন মঙ্গলবার সন্ধ্যা নাগাদ চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ২৮৫ কিলোমিটার দূরে, কক্সবাজার থেকে ২৫০ কিলোমিটার, মোংলা থেকে ২৩৫ কিলোমিটার আর পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।

ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশে উপকূলীয় এলাকায় দমকা ও ঝড়ো হাওয়াসহ ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। অর্থাৎ ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং ভারী বর্ষণের প্রভাবে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভূমিধ্বস হতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলায় সকাল থেকেই বৃষ্টিপাত চলছে এবং সমুদ্র বেশ উত্তাল অবস্থায় আছে।

চট্টগ্রাম, লক্ষ্মীপুর, কক্সবাজার, নোয়াখালীর আশ্রয় কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে সেখানকার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ইতোমধ্যেই অসংখ্য মানুষ সেসব আশ্রয় কেন্দ্রে চলে গেছে।

ধারণা করা হচ্ছে, এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সন্দ্বীপ সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে থাকতে পারে, এজন্য বাড়তি প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

সারা জেলায় প্রায় নয় হাজার স্বেচ্ছাসেবক রাত আটটা পর্যন্ত মাইকিং এর মাধ্যমে মানুষকে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করবে বলে তিনি জানান।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত অতিদ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে।

প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর প্রভাবে সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া লঘুচাপটি ক্রমশ শক্তি সঞ্চয় করে রবিবার গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়। গভীর নিম্নচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে সোমবার রাতে ঘূর্ণিঝড় হামুনে পরিনত হয়।

ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার পর সেটি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হতে থাকে।

এটি বাংলাদেশে আঘাত করলে সেটি হবে চলতি বছরের দ্বিতীয় ঘূর্ণিঝড়। এর আগে গত মে মাসে ঘূর্ণিঝড় মোখা দুর্বল হয়ে বাংলাদেশে প্রভাব ফেলেছিল।

আবহাওয়াবিদরা বলেছেন, ঘূর্ণিঝড় অনেক সময় এর গতিবেগ ও গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে বা একই জায়গায় আবর্তন করতে পারে। সুতরাং উপকূল অতিক্রমের সময় এদিক ওদিক হতে পারে।

বঙ্গোপসাগরের বেশিরভাগ এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী দুই-তিন দিন চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশালের উপকূলীয় এলাকা সেইসাথে ঢাকা ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে টানা বৃষ্টি হতে পারে।

ঝড়ের প্রভাবে সোমবার সকাল থেকেই উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা দেখা যায় যার ঘণীভূত হওয়া এখনও অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশের মার্চ থেকে মে এবং অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাস ঘূর্ণিঝড় প্রবণ বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।

%d bloggers like this: